বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ জুলাই মাসের থেকে আগস্ট মাসে দ্বিগুণের বেশি। মৃত্যু বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি, তাতে ডেঙ্গু বেড়ে যাওয়ার লক্ষ্মণ স্পষ্ট। কিন্তু এডিস মশাবাহী এ রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাগিদ দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাড়া কম বলা হচ্ছে।
দুটো কারণে ডেঙ্গু নিয়ে এবার ভয়। প্রথমত, এ বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ যেমন গত বছরের চেয়ে অনেক কম, মৃত্যুও কম। কিন্তু এবার মৃত্যুহার এখন পর্যন্ত গত বছরের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি।
দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গু সাধারণত বর্ষার সময় হয়। কিন্তু বাংলাদেশে গত ২০২২ সালের অভিজ্ঞতা হলো ওই বছর সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছিল অক্টোবর মাসে। এবার এখন পর্যন্ত সংক্রমণ ও মৃত্যু কম হলেও আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি, বিশেষ করে বর্ষা–পরবর্তী প্রবল বৃষ্টি ডেঙ্গুর অশনিসংকেত দিচ্ছে বলে জানান জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।

আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৬ হাজার ৯৯৯ জন, মৃত্যু হয় ৩০ জনের। আর জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৯৯। ওই মাসে মৃত্যু হয় ১২ জনের।
চার সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ১ আগস্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫১৭ জন। সপ্তাহ বাদে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫৬৩ জনে। এর পরের সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৯৮০ জনে। পরের দুই সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায় যথাক্রমে ১ হাজার ৭৬ এবং ২ হাজার ১৮৫ জনে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৩২০ জন। আর শুধু আগস্ট মাসেই এ সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার হয়ে গেছে। আগস্টের মতো মৃত্যু আগের কোনো মাসে হয়নি।
গত আগস্ট মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৬ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। ওই দপ্তরের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত প্রায় এক দশকে বর্ষা–পরবর্তী সময়ে বৃষ্টি বেড়ে গেছে। আর এর প্রভাব পড়ছে ডেঙ্গুর বিস্তারে।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে পানিতে থাকা এডিস মশার কামড়ে। বর্ষা–পরবর্তী সময়ে বৃষ্টি হওয়ার ফলে ২০২২ সালে অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি বিস্তার হয়। ওই মাসে আক্রান্ত হন ২১ হাজার ৯৩২ জন। আর ওই বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় নভেম্বর মাসে—১১৩ জন। ওই বছর ‘অকালে’ ডেঙ্গুর বিস্তার পরের বছর অস্বাভাবিক বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।
বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘২০২২ সালের স্মৃতি আমাদের আছে। তাই বর্ষা–পরবর্তী সময়ে এবারও ডেঙ্গুর শঙ্কা আছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’